নিঝুম দ্বীপ, বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার অন্তর্গত একটি মনোরম দ্বীপ। এটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর, যেখানে ম্যানগ্রোভ বন, বন্যপ্রাণী, এবং নিস্তব্ধ সমুদ্র আপনাকে মুগ্ধ করবে।প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য আদর্শ গন্তব্য এই নিঝুম দ্বীপকে কেন্দ্র করেই গৃহত্যাগীর এবারের এই আয়োজন।
যাত্রার তারিখঃ ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ (বৃহস্পতিবার) ঢাকা সদরঘাট থেকে বিকেল ৫টায় রওনা।
(১৪, ১৫ তারিখ রাতে ক্যাম্পিং, ১৬ তারিখ রাতের লঞ্চে ফেরা।
ফেরার তারিখঃ ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ (সোমবার) সকাল ৬-৭ টার মধ্যে ঢাকা এসে পৌঁছানো।
ইভেন্ট ফিঃ ৫৫০০ টাকা জনপ্রতি।
বুকিং মানিঃ ৩০০০টাকা (মোবাইল ব্যাংকিংয়ে দিলে খরচসহ দিতে হবে)
বিস্তারিত ও বুকিংঃ 01648-189538 (Whatsapp)
***********************
নিঝুম দ্বীপ বাংলাদেশের একটি ছোট্ট দ্বীপ। নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার অন্তর্গত নিঝুম দ্বীপ। একে 'দ্বীপ' বলা হলেও এটি মূলত একটি 'চর'। নিঝুম দ্বীপের পূর্ব নাম ছিলো চর-ওসমান। ওসমান নামের একজন বাথানিয়া তার মহিষের বাথান নিয়ে প্রথম নিঝুম দ্বীপে বসত গড়েন। তখন এই নামেই এর নামকরণ হয়েছিলো। পরে হাতিয়ার সাংসদ আমিরুল ইসলাম কালাম এই নাম বদলে নিঝুম দ্বীপ নামকরণ করেন। মূলত বল্লারচর, চর ওসমান, কামলার চর এবং চুর মুরি- এই চারটি চর মিলিয়ে নিঝুম দ্বীপ। প্রায় ১৪,০৫০ একরের দ্বীপটি ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দের দিকে জেগে ওঠে। ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দের আগ পর্যন্ত কোনো লোকবসতি ছিলো না, তাই দ্বীপটি নিঝুমই ছিলো। বাংলাদেশের বনবিভাগ ৭০-এর দশকে বন বিভাগের কার্যক্রম শুরু করে। প্রথমে পরীক্ষামূলক ভাবে চার জোড়া হরিণ ছাড়ে। নিঝুম দ্বীপ এখন হরিণের অভয়ারণ্য। ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দের হরিণশুমারী অনুযায়ী হরিণের সংখ্যা ২২,০০০। নোনা পানিতে বেষ্টিত নিঝুম দ্বীপ কেওড়া গাছের অভয়ারণ্য। ম্যানগ্রোভ বনের মধ্যে সুন্দরবনের পরে নিঝুম দ্বীপকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন বলে অনেকে দাবী করেন।
নিঝুম দ্বীপ মূলত বাংলাদেশের অন্যতম একটি রিলাক্সিং প্লেস, একেবারেই ঝুট ঝামেলাহীন দুটো দিন কাটিয়ে আসতে নিঝুম দ্বীপ আমাদের অন্যতম পছন্দের যায়গা।
***********************
** ভ্রমণের সম্ভাব্য বর্ণনা
ডে-০
আমরা সদরঘাট থেকে লঞ্চ এর ডেকে করে যাব হাতিয়া (কেউ কেবিন নিলে আগে জানাতে হবে, এবং সেই ক্ষেত্রে কেবিনের জন্য এক্সট্রা যত যোগ হবে, সেটি দিতে হবে), লঞ্চ ছাড়বে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায়।
ডে-০১
সকালে হাতিয়া নেমে সেখান থেকে নেমে ট্রলারে করে নিঝুম দ্বীপ। নিঝুম দ্বীপ নেমে ক্যাম্পিং জোনে চেক ইন করে ফ্রেশ হয়ে লাঞ্চ সেরে নেবো। লাঞ্চ করে আর বেশি দেরি না করেই চলে যাবো নিঝুম দ্বীপ এর মূল আকর্ষণ সেই বনে, যেখানে হাজারো হরিণ থাকে। সন্ধ্যায় ফিরে ক্যাম্পিং জোনে ফিরে ফ্রেশ হয়ে বাজারে ঘোরাঘুরি করে রাতের খাবার খেয়ে নেব।
ডে-০২
সকালে নাস্তা সেরে চলে যাবো বিচ দেখতে, অনেক বড় বিচ, তবে এখানে অনেক কাঁদা থাকে, প্রায় হাঁটু সমান।
সেখানে আছে কবিরাজের চর, চৌধুরী খাল। সম্ভাব্য পরিদর্শন শেষে ফিরে এসে লাঞ্চ সেরে একটু রেস্ট করা যাবে। কেউ চাইলে আবারো বনে যেতে পারে ঘুরতে। সন্ধ্যার পর বার বি কিউ এর প্রস্তুতি শুরু হয়ে যাবে। তারপর ঘুম।
ডে-০৩
ভোরে উঠে নাস্তা সেরে নৌকায় করে যেতে হবে হাতিয়া, সেখান থেকে লঞ্চ ছাড়বে ১২টায়। তারপর পরদিন ১৭ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) সকালে ঢাকায় থাকবো আমরা।
(পরিস্থিতি উপর নির্ভর করে প্লান পরিবর্তন হতে পারে।
★★ ট্যুর প্যাকেজে যা যা পাচ্ছেন-
- ১৪ ও ১৫ তারিখের সকাল, দুপুর, রাত এবং ১৬ তারিখের সকাল-দুপুরের খাবার (একবার বারবিকিউ থাকছে)।
- লঞ্চের ডেকে যাওয়া-আসা
- তাবু খরচ
- অভ্যন্তরীণ যাতায়াতের খরচ (গ্রুপের প্ল্যানের মধ্যে যেগুলো আছে)।
★★ ট্যুর প্যাকেজে যা যা থাকছে না
- কোনো ধরনের ব্যক্তিগত খরচ।
- ওষুধ বা চিকিৎসা জাতীয় খরচ।
- ট্যুর প্যাকেজের বা টিমের বাহিরে কোন খাবার খেলে।
- যাওয়ার দিন ও ফেরার দিন লঞ্চে রাতের খাবার।
২৮ জানুয়ারির মধ্যে ওয়েবসাইটে ঢুকে বুকিং করলে থাকছে গিফট : https://grihotagi.com/events/26