বান্দরবানে ট্রেকিং ট্যুরে যা যা সাথে নেয়া জরুরি
বান্দরবানের পাহাড় মানেই মেঘের আনাগোনা, গহীন অরণ্য আর পাথুরে ঝরনার শব্দ। কিন্তু আমিয়াখুম, সাকা হাফং, ক্রিসতং কিংবা আন্ধারমানিকের মতো মতো দুর্গম পথে ৪-৫ দিনের ট্রেকিং মোটেও সহজ কাজ নয়। এখানে আপনার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো আপনার প্রস্তুতি। ভুল গিয়ার বা ভারী ব্যাগ আপনার রোমাঞ্চকর ভ্রমণকে যন্ত্রণাদায়ক করে তুলতে পারে।
১. পায়ের সুরক্ষা: আপনার আসল ইঞ্জিন
পাহাড়ে আপনার পুরো শরীরের ভার বহন করবে আপনার পা। তাই জুতা নির্বাচনে কোনো আপস করবেন না। সাধারণ স্নিকার্স পাহাড়ে পিছলে যেতে পারে। ভালো গ্রিপ এবং গোড়ালি সুরক্ষিত রাখে এমন ট্রেকিং বুট বেছে নিন। ঢাকার বেশ কয়েকটি ট্রেকিং এক্সেসরিজ শপে ভালোমানের ট্রেকিং স্যান্ডেল পাওয়া যায়, আপনি ফুটপাতেও পেয়ে যেতে পারেন। এগুলো দীর্ঘ পথ হাঁটায় আপনাকে বেশ সাপোর্ট দেবে। সাথে অন্তত তিন জোড়া মোজা নেবেন যেন পায়ে ফোসকা না পড়ে। একইসাথে মোজা আপনাকে জোঁক থেকেও সুরক্ষা দেবে।
২. পোশাক: ওজনে হালকা, কাজে দামী
৪-৫ দিনের জন্য অনেক কাপড় নেয়ার ভুল করবেন না। পাহাড়ে কাপড় ধোয়ার বা শুকানোর সুযোগ কম থাকে। টি-শার্ট ২-৩টি পলিয়েস্টার বা ড্রাই-ফিট গেঞ্জি। এগুলো ঘাম দ্রুত শুকায় এবং ওজনে খুব হালকা। প্যান্টের ক্ষেত্রে ডেনিম বা জিন্স পুরোপুরি বাদ দিন। জিপ-অফ বা স্ট্রেচেবল ট্রাউজার ব্যবহার করুন। রাতে পাহাড়ে বেশ ঠান্ডা থাকে। তাই একটি হালকা উইন্ডব্রেকার বা থার্মাল ইনার সাথে রাখুন।
৩. ব্যাকপ্যাক ও ট্রাভেল গিয়ার
ব্যাকপ্যাক (৪০-৫০ লিটার): ভালো মানের প্যাডিং ও ওয়েস্ট-বেল্ট আছে এমন ব্যাগ নিন যাতে কাঁধে চাপ কম পড়ে। পাহাড়ে যেকোনো সময় বৃষ্টি হতে পারে, রেইন কভার ও জিপলক ব্যাগ রাখুন সাথে। আপনার মোবাইল, ক্যামেরা এবং কাপড় শুকনো রাখতে রেইন কভার এবং জিপলক ব্যাগ উপকারী হতে পারে।
ট্রেকিং পোল: খাড়া পাহাড়ে ওঠার সময় এটি আপনার ‘তৃতীয় পা’ হিসেবে কাজ করবে এবং নামার সময় হাঁটুর ওপর বেশ চাপ কমিয়ে দেবে।
৪. টেকনোলজি ও আলো
অনেক সময় পাহাড়ে ফিরতে রাত হয়ে যায়, অথবা ক্যাম্পে আলোর দরকার হয়। হেডল্যাম্প থাকলে আপনার হাত দুটি ফাঁকা থাকবে।
পাওয়ার ব্যাংক: পাহাড়ের অনেক পাড়ায় বিদ্যুৎ থাকে না। অন্তত ২০,০০০ mAh-এর একটি পাওয়ার ব্যাংক সাথে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
৫. ব্যক্তিগত সুরক্ষা ও ওষুধ
মশা তাড়ানোর ক্রিম ওডোমোস ম্যালেরিয়া বা ডেঙ্গুর ঝুঁকি এড়াতে সবচেয়ে জরুরি। এছাড়া ব্যান্ডেজ, ওরাল স্যালাইন, প্যারাসিটামল, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ সাথে রাখুন। পাহাড়ি ঝরনার পানি সরাসরি পান করা সবসময় নিরাপদ নয়। তাই সাথে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ব্যবহার করুন।
৬. খাবার ও হাইড্রেশন
বাদাম, খেজুর, কিশমিশ এবং চকোলেট যা তাৎক্ষণিক ক্লান্তি দূর করবে। কমপক্ষে ২ লিটার পানি ধারণক্ষমতার বোতল রাখুন।
গৃহত্যাগী টিপস
পাহাড়ে যাওয়ার আগে ব্যাগ গুছিয়ে কাঁধে নিয়ে একটু হাঁটার প্র্যাকটিস করুন। মনে রাখবেন, ব্যাগ যত হালকা, পাহাড় তত সহজ।
আপনার পরবর্তী বান্দরবান ট্রিপের জন্য শুভকামনা!
