বগালেক হয়ে কেওক্রাডং
প্রকৃতিকে দু’চোখ ভরে দেখার পাশাপাশি যদি তাকে জয় করার ব্যাপার যুক্ত হয় তাহলে সেই অভিযাত্রা আরো রোমাঞ্চকর ও দুঃসাহসিক হয়ে যায়। বগালেক থেকে দার্জিলিং পাড়া হয়ে কেওক্রাডং যাত্রাটাও ঠিক তেমনি এক অপার সৌন্দর্য্যকে জয় করার শামিল। বগালেকের পৌরাণিক ড্রাগনের কথা সবারই জানা। আর দার্জিলিং পাড়া পেরোবার সময় বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন গ্রাম হিসেবে এর সুখ্যাতির কারণটা খুব ভালো ভাবেই বোঝা যায়। এরপর কেওক্রাডং-এর দিকে যতই এগোনো হয়, ৩১৭২ ফুট উচ্চতার মাধ্যাকর্ষণ টান ঠিক ততটাই যেন পিছু টেনে ধরে। এই অভিযাত্রার আদ্যোপান্ত নিয়েই এবারের ভ্রমণ ফিচার।
বগালেক, দার্জিলিং পাড়া অতঃপর কেওক্রাডং
বান্দরবানের রামু উপজেলায় প্রথমে বগালেক তারপর দার্জিলিং পাড়া হয়ে যেতে হয় কেওক্রাডং। স্বভাবতই এই ভ্রমণের প্রবেশদ্বার হিসেবে স্থলাভিষিক্ত করা যেতে পারে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উচ্চতার স্বাদু পানির হৃদ বগালেককে। শঙ্খ নদীর তীরে পলিতাইন পর্বতশ্রেণিতে বসবাসরত আদিবাসীদের একটি বম। এই বম’দের ভাষায় বগা বলা হয় ড্রাগনকে। এ নিয়ে দারুণ সব লোককাহিনী শোনা যায়, যেগুলোর কোন প্রমাণ না থাকলেও মৃত আগ্নেয়গিরি জ্বালামুখের মত লেকটির গঠনটা পিলে চমকে দেয়ার মত।
শঙ্খ নদীর তীর ঘেষে সবুজ কেওক্রাডং-এর দানবীয় সৌন্দর্য্যকে দৃষ্টি সীমানায় ধারণ করার সকল প্রচেষ্টা যখন ব্যর্থ হবে তখনি উপত্যকার ছোট অদ্ভূত গ্রামটি দৃষ্টিতে পরম শান্তির পরশ বুলিয়ে দেবে। মেঘের সামিয়ানার নিচে ফুলেল গ্রামটি এই দুর্গম বিশালতায় একদম-ই বেমানান। কেওক্রাডং-এর নিঃসীম দানবীয়তা ভেদ করে যেন হঠাৎ উদয় হয়েছে এক টুকরো দার্জিলিং। এই পরিচ্ছন্ন বসতিটিই পর্বতারোহীদের প্রস্তুত করে দেয় বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ পাহাড় কেওকাডং জয় করার জন্য।
ঢাকা থেকে বান্দরবান যাত্রা
ঢাকা থেকে এই তিন জায়গা দেখতে যেতে হলে প্রথমেই চলে আসতে হবে বান্দরবানে। গাবতলি, কলাবাগান অথবা যাত্রাবাড়ি, সায়েদাবাদ থেকে বান্দরবানের উদ্দেশ্যে বাস পাওয়া যাবে।
বান্দরবানে নেমে প্রথমে রুমা বাস স্ট্যান্ড থেকে বাসে করে রুমা যেতে হবে। এছাড়া চান্দের গাড়ি অথবা জীপ রিজার্ভ নিয়ে সরাসরি রুমা বাজার যাওয়া যায়।
গন্তব্য বগালেক, দার্জিলিং পাড়া হয়ে কেওক্রাডং
রুমা বাজার থেকে এবার গাইড সমিতির রেজিস্টার্ডকৃত একজন ভালো গাইড ঠিক করে নিতে হবে। তারপর কাজ হচ্ছে রুমা বাজার আর্মি ক্যাম্প থেকে কেওক্রাডং যাওয়ার অনুমতি নেয়া।
অনুমতি মিলে গেলে কাজ হবে চান্দের গাড়ি বা জীপ গাড়ি ভাড়া করা। গাইডই এই কাজে সহায়তা করতে পারবে।
বগালেকে যাওয়ার পর সেখানে আর্মি ক্যাম্পে রিপোর্ট করতে হবে। তারপর দার্জিলিং পাড়া ঘুরে জিপে কেওক্রাডং চূড়ায়।
দীর্ঘ ভ্রমণে খাবার ও রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা
বগালেক, কেওক্রাডং দুই জায়গাতেই রাত্রিযাপন করা যায়। এ ক্ষেত্রে গাইডের মাধ্যমে আগে ভাগেই স্থানীদের সাথে কথা বলে তাদের কটেজে থাকার ব্যবস্থা করে রাখতে হবে। খাওয়া-দাওয়াও একইভাবে আগে থেকে বলে বন্দোবস্ত করে রাখতে হবে।
তবে সবচেয়ে ভালো হবে কেওক্রাডং যাওয়ার আগে বগালেক এক রাত থাকা।
পরিশিষ্ট
বগালেক থেকে দার্জিলিং পাড়া হয়ে কেওক্রাডং-এর এই দীর্ঘ যাত্রায় সাথে অবশ্যই জাতীয় পরিচয়পত্র রাখতে হবে। পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থেই আর্মি ক্যাম্প প্রয়োজনীয় তদরকি করে থাকে। তাই তাদের নিয়ম অনুসারে ভ্রমণ পরিকল্পনা করা আবশ্যক। এছাড়া ভ্রমণের সময় ভ্রমণ গাইড ও স্থানীয় লোকদের সাথে ভালো আচরণ করা বাঞ্ছনীয়। এছাড়া পার্বত্য পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলার ব্যাপারে নিজেকে বিরত রাখা ও অন্যদের নিরুৎসাহিত করা প্রত্যেক ভ্রমণপিপাসুর দায়িত্ব।
